জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকগুলোর সরাসরি কার্যক্রম শুরুর সুযোগ এবং বিনিয়োগ অর্থায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরতে বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ আয়োজন করেছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এতে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খাতের ২৬টি কোম্পানি অংশ নেয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার সদর দপ্তরে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের তিনটিই এ আয়োজনে অংশ নেয়।
এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এতে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেয়। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে কাছাকাছি বা কম বাণিজ্য রয়েছে, এমন কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়ানোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এসব ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ এবং তাদের অর্থায়নকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার ভূমিকা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে নেটওয়ার্কিং পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণই এ ধরনের অর্থায়নের চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়ক অংশীদারত্ব। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।
চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না বিশেষায়িত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকটির প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে। বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন ধারাবাহিক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন