ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে শহরের স্টেশন বাজারস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম খান সজীবের সঞ্চালনায় আলোচনা অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি, ইসলামপুর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু প্রমুখ।
প্রধান অতিথি শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি তার বক্তব্যে বলেন, জিয়াউর রহমান রনাঙ্গনে জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছেন। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রাম হয়েছে। তখন শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতারা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকের কথা বলে আজকে যারা ভারতে আছেন, সেদিনও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অনেকে ভারতে পালিয়েছিলেন। যে মানুষটি পালিয়ে যায়নি, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ক্ষান্ত হয়নাই, রনাঙ্গনে জীবন বাজী রেখে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন যার দেওয়া নেতৃত্বে আমাদের বড় অর্জন মহান স্বাধীনতা পেয়েছি সেই আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
আলোচনা সভা শেষে শহরের প্রধান সড়কে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার