বিশেষ সংবাদদাতা
(বিএফএল) খেলায় বিরতি পড়েছিল ৩ জানুয়ারি। মধ্যবর্তী দলবদলের বিরতিতে কয়দিন খেলা বন্ধ থাকবে তা নির্ধারিত না। সাধারণত দুই বা তিন সপ্তাহ পর শুরু হয়ে যায় ফিরতি লেগের খেলা। চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাবগুলোকে বিপদে ফেলে বাফুফের প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ৬১ দিন বিরতি দিয়ে লিগের ফিরতি পর্ব শুরু করতে যাচ্ছে ৬ মার্চ।
ক্লাবগুলো এ নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক কস্টের কথা বলেছে। তারা এক জোট হয়ে লিগ দ্রুত শুরু করতে বাফুফেকে আন অফিসিয়ালি চাপও প্রয়োগ করেছিল। তবে বাফুফে কর্মকর্তারা অনড় ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ফেডারেশন কাপ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লিগের ফিরতি পর্ব শুরুর জন্য বাফুফে ফিকশ্চারও দিয়েছিল ক্লাবগুলোকে। জাতীয় নির্বাচনকে কারণ দেখিয়ে বাফুফে মৌখিকভাবে বলেছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি লিগ শুরু হবে। সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে পারেনি বাফুফের প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। লিগ শুরুর নতুন তারিখ ৬ মার্চ নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার ফিকশ্চার চূড়ান্ত করেছে।
একই সঙ্গে স্থগিত ফেডারেশন কাপের ফিকশ্চারও তৈরি করেছে লিগ কমিটি। লিগ শুরুর চার দিন পর ১০ মার্চ মাঠে গড়াবে ফেডারেশন কাপ। শীর্ষ ফুটবল মাঠে ফিরছে তাতে বেশি খুশি হওয়ারও কারণ নেই ক্লাবগুলোর। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্প, ঈদ মিলয়ে আবার ছন্দপতন হবে শীর্ষ ফুটবলের। ১০ মার্চের পর ফেডারেশন কাপের পরের খেলা ৭ এপ্রিল এবং ৬ মার্চ লিগ শুরু দুই রাউন্ড হয়ে আবার বিরতিতে যাবে। ১৪ মার্চ একাদশ রাউন্ড হওয়ার পর দ্বাদশ রাউন্ড ১০ ও ১১ এপ্রিল।
৬১ দিন লিগের বিরতি ক্লাবগুলোর ওপর পড়েছে বাড়তি চাপ। প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে থাকা ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, ‘এটা কেবল আর্থিকভাবে চাপই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য একটা মানসিক চাপও। এভাবে লিগ লম্বা সময় বন্ধ থাকলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। তারা অনুশীলনেও সেভাবে উৎসাহ পাননা।’
৬ মার্চ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচ আছে চারটি। মানিকগঞ্জে মুখোমুখি হবে আরামবাগ-ফকিরেরপুল, গাজীপুরে পুলিশ এফসি খেলবে ব্রাদার্সের বিপক্ষে, কিংস অ্যারেনায় বসুন্ধরা কিংস খেলবে পিডব্লিউডির বিপক্ষে, কুমিল্লায় আবাহনীর প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ এবং ৭ মার্চ কুমিল্লায় মোহামেডানের বিপক্ষে খেলবে ফর্টিস এফসি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার