ডেস্ক নিউজ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছে পুলিশ। এগুলো হলো—
প্রথমত, মরিয়ম খাতুন যখন ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন, তখন গাজী নজরুল ও মাকসুদা একই বাসায় ছিলেন। ওই সময় তাদের কোনো প্রভাব বা ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারী সংস্থা।
দ্বিতীয়ত, মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে আসামিদের ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে চায় পুলিশ।
চতুর্থত, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় আরও কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তারের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পঞ্চমত, মামলার প্রকৃত ঘটনা ও মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার মেয়ের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাসহ শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়গুলো মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে হাইকোর্ট গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন দেন। বর্তমানে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে।