ডেস্ক নিউজ
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আমদানিকারকের অজ্ঞাতসারে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিকৃত কাপড়ভর্তি কনটেইনার খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কনটেইনারটি ১১ আগস্ট বন্দর থেকে বের করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
গ্রেফতার মোর্শেদ চট্টগ্রামের পটিয়া থানার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রাম গ্রামের আলতাফ আলী মৌলভী বাড়ির মো. রফিকের ছেলে এবং সাইদুর পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারি গ্রামের মো. সুলতান আহম্মেদের ছেলে। দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার চুরির ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ মামলা দিয়েছে। মামলায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে আসামিদের রিমান্ডে এনে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশোকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের আমদানিকৃত ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল) ভর্তি একটি ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনার (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) চট্টগ্রাম বন্দরে ভেতর থেকে গায়েব হয়ে যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বিরুলিয়া ছোট কালিয়াকৈর এলাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড কাপড়ভর্তি কনটেইনারটি আমদানি করে। গত ৩০ আগস্ট এসআরআস এসওয়াইএনডি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড নামের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান কনটেইনারটি খালাসের জন্য অনুমতি নেয়। পরে সিসিটি ইয়ার্ডে অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কাছে গেলে দেখা যায়, কনটেইনারটি সেখানে নেই।
সাইফ পাওয়ারটেক জানায়, গত ১১ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারির জন্য সিস্টেমে তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে কনটেইনারটি গাড়িতে তোলার আগে কাগজপত্রে সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. এস্কান্দর ফারুকের যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে তা ছিল ভুয়া। পরে সিস্টেম চেক করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী নেয়ামূল হক সরকারের আইডি (১৪৫৩২) ব্যবহার করে গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে কনটেইনারটি সম্পর্কে সিস্টেমে ইনপুট দেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার