প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ১২:২৬ পি.এম
২৬ আগস্টের সেই নির্যাতনের স্মৃতি, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
মনসুর লোকমান রাকিব ,লালমাই প্রতিনিধি
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া এবং হামলায় আহত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৭নং বেলগড় উত্তর ইউনিয়নের উন্দানিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিত একচেটিয়া হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওইদিন আওয়ামী লীগের তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন, আবুল ও শাহ আলমের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে লালমাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মিয়া গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া মনির হোসেন, উত্তরদা গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নং বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, ওই ঘটনায় রাম দা-এর কোপে গুরুতর আহত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০২৩ সালের ২৬ আগস্টের ঘটনাটি তাদের কাছে শুধু একটি সংঘর্ষের ঘটনা নয়; এটি ছিল দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও নির্যাতনের একটি স্মৃতি। সেদিন যারা হামলা, গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরবর্তীতেও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক দলের সুসময় এলে অনেকেই সামনে আসেন। কিন্তু দুঃসময়ে যারা মামলা, হামলা, নির্যাতন ও গুলির মুখেও দল ও আদর্শের পাশে ছিলেন, তাদের যেন কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা না হয়।
ত্যাগী নেতাকর্মীদের বক্তব্য, দলের জন্য যারা নির্যাতিত হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং কঠিন সময়ে মাঠে থেকেছেন—দলের নেতৃত্বের উচিত তাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দায়িত্বে মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
২৬ আগস্টের সেই ঘটনার স্মৃতি মনে করে আহত নেতাকর্মী ও তাদের সহযোদ্ধারা বলছেন, অতীতের ত্যাগ যেন বিস্মৃত না হয়। দলের দুঃসময়ে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার