ডেক্স রিপোর্ট:
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন, তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হয়।
মামলায় আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীনকে (৩৩) আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোনো নির্দেশ আসেনি। আদালতের আদেশের কপি পেলে বিস্তারিত জানতে পারবো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে আমির হোসেনের নিজস্ব জমিতে নির্মিত একটি চারতলা ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর নিচতলায় একটি আলমারির দোকান রয়েছে। ভবনের অন্য অংশ আবাসিক হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ আসামিরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।
এজাহারে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আবারও বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভবন দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ১৭টি স্টিলের আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই দরজার ওয়াল শোকেস ও আলমারির শিটসহ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকার মালামাল নিয়ে যান। এ সময় ক্যাশ টেবিলে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী জানান, ঘটনার সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বৈঠকের সময় আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে দখল ছাড়বেন না বলেও তিনি জানিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
এ সময় আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে এবং আদিল সরাসরি তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে লোহাগাড়া থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে বাদী অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার