
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে মা, শিশু সন্তান ও ভাতিজাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিহত গৃহবধূর স্বামী সৌদি প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে হোমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি করেন।
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মনিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জহিরুল ইসলামের স্ত্রী সুকিয়া বেগম (৪০), তার চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং পাঁচ বছরের ভাতিজা মোহাম্মদ জোবায়েরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরদিন সকালে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখে সন্দেহ পোষণ করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে তিনটি আলাদা কক্ষে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বুধবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ মনিপুর গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জানাজা শেষে মনিপুর শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা জহিরুল ইসলাম জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, "আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। তবে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো 'ক্লু' পাওয়া যায়নি।"
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, "ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।"
এই ত্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পুরো ঘারমোড়া ইউনিয়নে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।