ডেস্ক নিউজ
নিজের নির্বাচনী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বুক ফুলিয়ে চলাফেরার উৎসাহ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ ও নাটোর–২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেছেন, কেউ হিন্দুদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে বা হুমকি–ধামকি দিলে তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে নাটোর সদর উপজেলার ৮২টি দুর্গা মন্দিরে ও নলডাঙ্গা উপজেলার ৫৯টি দুর্গা মন্দিরে সরকারি অনুদানের ৬০০ কেজি করে চাল প্রদান অনুষ্ঠানে দুলু এ কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে আমরা হিন্দু–মুসলমান একসাথে বসবাস করছি। ঈদে হিন্দুরা আমাদের বাড়িতে আসতো আর পূজাতে আমরা তাদের বাড়িতে যেতাম। নাড়ু–মোয়া খেতাম। কত আনন্দ করতাম। আমাদের মধ্যে একটা সোহার্দ ছিল। হিন্দু–মসুলমানদের মধ্যে কোন বিভেদ ছিল না। কিন্তু গত ১৭/১৮ বছর সেই সুযোগ আর হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে নাটোর–২ আসনের সংসদ সদস্য দুলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন– ‘হিন্দুরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, হিন্দুদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।’
হিন্দুদের আশ্বস্ত করে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘কেউ যদি কিছু কয়, কেউ যদি উল্টাপাল্টা কিছু বলে আমাকে ফোন করবেন, আমি তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা করব। নাটোর ও নলডাঙ্গা নির্বাচনী এলাকা। আমি এর আগেও বলেছি, এখনও বলছি যে কদিন আমি বেঁচে আছি, আপনাদের আমি নিজেই পাহারা দেব। এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন বুক উচু করে চলাফেরা করবেন। যদি কেউ আপনাদের দিকে বাঁকা চোখে তাকায় বা হুমকি ধামকি দেয় তাহলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দেবে। কেউ মনে করবেন না হিন্দুরা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় করে পার পাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজাহার আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার