ডেস্ক নিউজ
মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা পুলিশের মানবিক ও দায়িত্বশীল তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া চার শিশুকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুদের ফিরে পেয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ইস্টান বাজার এলাকার বাসা থেকে পরিবারের অজ্ঞাতে বের হয়ে যায় চার শিশু। তারা হলো—রাব্বি (১০), পিতা আব্দুল করিম; জাহিদুল ইসলাম (১১), পিতা হানিফ; হাসান (১১) ও হোসাইন (১১), উভয়ের পিতা রিয়াজুল ইসলাম। তাদের সবার বাড়ি ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কেরানীগঞ্জ স্ট্যান্ড বাজার এলাকায়।
চার শিশু তেঘরিয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে মাওয়া রেলস্টেশনে গিয়ে নামে। তাদের কাছে থাকা ২০০ টাকা নিয়ে তারা মাওয়া ঘাট এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। একপর্যায়ে টাকা শেষ হয়ে গেলে তারা বাড়িতে ফিরতে না পেরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে চন্দ্রের বাড়ি বাজার এলাকায় কান্নাকাটি শুরু করে।
বিষয়টি জানতে পেরে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চার শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুদের খুঁজে না পেয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় শিশুদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।
উল্লেখ্য, হাসান ও হোসাইন জমজ দুই ভাই। পুলিশের দ্রুত তৎপরতা ও মানবিক উদ্যোগে নিখোঁজ তিন পরিবারের চার শিশু নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ায় এলাকাবাসী পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার