ডেস্ক নিউজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার ভবন) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের গাফিলতির প্রতিবাদে ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে অভিনব উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণকাজের জন্য আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে যায়। লাইব্রেরির কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন থেকে চার বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে দীর্ঘ সময় ধরে হলটির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এমনকি হলের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংযোগ সড়কও নেই। ফলে বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ। এতে প্রশাসনের সমন্বয়সভাকে ‘দায়সারা ও কালক্ষেপণ’ উল্লেখ করে তা বর্জন করা হয়। একই সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কর্মদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং ওয়াশরুমের পাশে অবস্থিত ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন; হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ; হলের মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা এবং হলের চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
আন্দোলনরত ৫০ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল হাসান বলেন, লাইব্রেরির কাজের কারণে আমাদের মাঠ নষ্ট হয়েছিল। কথা ছিল কাজ শেষ হলে দ্রুত মাঠ বানিয়ে দেওয়া হবে। হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা বারবার জানানোর পর প্রশাসন টেন্ডার দিতে রাজি হলেও শুধু কালক্ষেপণ ও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সব হলে মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা আছে, শুধু আমাদের হলের মাঠ নেই। এমনকি ভেতরে চলাচলের রাস্তাও নেই। বাইক বা যানবাহন বারান্দা দিয়ে চালাতে হয়। অবিলম্বে আমাদের মাঠ ও সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেছেন, হল সংসদ গঠনের আগে থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা ২৭ আগস্ট উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মাঠ সংস্কারের কাজ শুরুসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার