সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘সত্যের পক্ষে’এই দৃড় প্রত্যয়কে ধারণ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্বাধীন দিগন্ত-এর ৬ষ্ঠতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, কেক কাটা, গুণীজন সম্মাননা প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সম্পাদক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী ও গণ্যমান্য অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনই করে না, বরং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাধীন দিগন্ত ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানুষের আস্থা ধরে রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“ছয় বছরের এই পথচলায় স্বাধীন দিগন্ত সত্য, ন্যায়, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। পাঠকের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আগামী দিনেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যসমৃদ্ধ ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে স্বাধীন দিগন্ত।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি ওবায়দুর রহমান শামীম, জাসাসের আহ্বায়ক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক হেলাল খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, বিএফইউজে-এর সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. মোঃ মেহেদী মাসুদ এবং বিএফইউজে-এর দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সত্য ও নির্ভুল তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, সচেতন ও জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে স্বাধীন দিগন্ত-এর সফলতার ছয় বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। পরে সমাজ, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে স্বাধীন দিগন্ত-এর উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত অতিথিরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বাধীন দিগন্ত ভবিষ্যতেও দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃড় করবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার