সোহেল রানা মিলন, স্টাফ রিপোর্টার:
বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র নিখোঁজের প্রায় ১৯ ঘন্টা পর সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এনায়েতপুর স্পার বাঁধের দক্ষিণ এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থী জিসান আহমেদ (২৩) গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাহেবপাড়া মহল্লার আকবার আলীর একমাত্র ছেলে।
এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এসেছেন মরদেহ গ্রহনের জন্য।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত রোববার ঢাকা থেকে চার বন্ধু মিলে এনায়েতপুর গোলামের হোটেলে খাবার খেতে আসেন। এসময় যমুনা নদীতে গোসলে নেমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রস জিসান পানিতে ডুবে যায়। বন্ধুরা ও স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
পরে এনায়েতপুর থানা পুলিশ, বেলকুচি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দিনভর চেষ্টার পর রাত আনুমানিক আটটার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেন । এ খবর শুনে গতকাল রোববার রাতেই রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসেন এবং আজ সোমবার সকালে তাদের (ডুবুরি) দলের চেষ্টায় জিসানের মরদে উদ্ধার করা হয়।
নিহতের চাচা জাহিদ আহম্মেদ শিমুল জানান, খবর পেয়ে আমরা চলে এসেছি মরদেহ গ্রহনের জন্য।
এদিকে বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভ্রমণ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নেওয়ায় নিখোঁজ ছাত্রের স্বজনদের মধ্যে চরম শোক নেমে এসেছে। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম(বার) ঘটনাস্থল রোববার রাতেই পরিদর্শন করেছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার