ডেস্ক নিউজ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব মাহবুব কবির মিলন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার কারণে দেশ আজ ‘মবল্যান্ডে’ রূপ নিয়েছে। সামর্থ্য থাকলে সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি যখন মানুষ আস্থা এবং সাহস হারায়, তখন সেটা পরিণত হয় মবল্যান্ডে। তখন যে যা ইচ্ছে, তাই করা শুরু করবে। সেদিন পুলিশের এক কর্মকর্তা বললেন, আগে আমি একাই অনেক ক্রিমিনাল ধরে তারপর গাড়িসহ ফোর্স ডেকেছি। এখন দলবলসহ কোথাও যেতেও ভয় লাগে। প্রতি আক্রমণ ও হামলার ভয়।’
‘৫ আগস্ট সারা দেশের থানা থেকে যত অস্ত্র লুট হয়েছে, তার ৫% অস্ত্রও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডিমরালাইজড বাহিনী আজও তাদের সাহস, মনোবল এবং নিজের প্রতি নিজের আস্থা ফিরে পায়নি। সেটার প্রয়াসও নেয়া হয়নি।’
‘ইউনূস সরকারের সময় রাস্তায় আইন ভঙ্গ করে মানুষ, গাড়িঘোড়া আটকিয়ে বসে থাকলে সামনে এগিয়ে পুলিশ সার্জেন্টকে পরিচয় দিয়ে কিছু একটা করার জন্য অনুরোধ জানালে, তিনি বললেন, স্যার তাদের গায়ে হাত দিয়ে মাইর খেতে বলেন!! এরপর তো অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে আমার চাকুরি খাবে।’
‘সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুলিশ প্রায় আক্রমণের স্বীকার হচ্ছে। প্রাণ যাচ্ছে। র্যাবের কয়েকজন মারাও গেছে। খুন গুম করে র্যাব ধ্বংস হয়ে নতুন নাম ধারণ করছে। কিরূপে ফিরে আসবে জানি না। তবে কালো কাপড়ের একটা ভয়াবহ ভয় ছিল মানুষের। ভবিষ্যৎ আল্লাহ ভাল জানেন।’
‘আসামি ধরা পড়লেই প্রায় সবাই মন্তব্য করে বসে, "আরে দুইদিন পরেই বের হয়ে আসবে!" এমনকি হাতেনাতে ধৃত খুনের আসামীর ক্ষেত্রেও। একটা দেশের বিচার ব্যবস্থা কতটা আস্থাহীন হলে মানুষ এমন কথা বলতে পারে!! অসভ্য, বর্বর এবং পিশাচ একটা জাতির কোন সিরিয়ালে পড়ব আমরা!!’
‘গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয় বলেছেন, সিন্ডিকেট করে আদালতের রায় প্রভাবিত করা যাবে না। তারমানে যাচ্ছে, গেছে এবং যাবে। তাহলে জনগণের শান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুবিচার ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কতটা শক্তিশালী, ডেডিকেটেড, কমিটেড, দলদাস মুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থের ওপরে উঠে কাজ করতে হবে!! দলদাস এবং দুর্নীতিবাজ ও মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন, বিচার ও রাজনৈতিক নেতা দিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত সেটা অর্জন করা যাবে না।’
‘গতকালও একজন ক্লাস সেভেনের বাচ্চা মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে দিনেদুপুরে ফটো তুলতে গিয়ে এখনো ঘরে ফিরে আসেনি। প্রতিদিন কতজন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে! ধর্ষণ, বলাৎকার আর হত্যার শিকার হচ্ছে!! কতটা ছিনতাই আর খুনের ঘটনা ঘটছে!! সেটা কি সহনীয় নাকি অসহনীয় মাত্রায়? সভ্য নাকি অসভ্য মাত্রায়? জনসংখ্যার তুলনায় লুত (আ) এর কওমের বলাৎকার আমাদের চেয়ে কম নাকি বেশি, নাকি সমানসমান!!’
‘ডিমরালাইজড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যতদিন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনা না যাবে, ততদিন নিজের জীবন নিজেই বাঁচান। পরিবারকে বাঁচান। এক মিনিটের জন্য বাচ্চাকে হাতছাড়া বা চোখের আড়ালে যেতে দেবেন না। না সিঁটিতে, না লিফটে। এমনকি স্কুল বা কোচিং সেন্টারে যেন একাকী না হয়। যে জাতির একটি মানুষকে কোনো দিক দিয়েই বিশ্বাস করার বিন্দুমাত্র উপায় থাকে না। সেটা আবার জাতি নাকি!!’
‘সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠিয়ে দিন। এখানে থাকলে খাদ্যের বিষে মরবে। ভেজাল ঔষধে মরবে। অপঘাতে মরবে। বিবেকের দংশনে মরবে। ধর্মের নামে অধর্মে মরবে।’
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার