ডেস্ক নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাংবাদিকরা সরাসরি সেই প্রশ্ন করতে পারেন এবং তিনি সেসব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অতিরিক্ত কূটনৈতিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সরাসরি প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার কাজ।
তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি করার জন্য এটা করছে কি না, আপনারা বলতে পারেন। আপনারা বলতে পারেন, সরকার তাদের নির্বাচিত মানুষদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এটা করছে কি না। সাংবাদিকের কাজ কিন্তু চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা। আপনারা করতে পারেন। আমি সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।
ভাইভায় তুলনামূলক বেশি নম্বর রাখলে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে? এমন আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ভাইভা যেহেতু বিষয়গত বা ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়ন, সেখানে কারসাজি কিংবা নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি এ বিষয়ে তিনি দ্বিমত করছেন না।
তবে চাকরির জন্য শুধু লিখিত পরীক্ষার জ্ঞানই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতা ও অ্যাপটিটিউডও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আর ভাইভার মাধ্যমে এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি বেশ কয়েকটি বিসিএসের ভাইভা নিয়েছেন। সেখানে এমন কিছু প্রার্থীকে পেয়েছেন, যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল খুব ভালো না হলেও ভাইভায় তাদের দেখে মনে হয়েছে, তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দিনশেষে আমরা আসলে এখানে একজন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর চাচ্ছি। আমাদের অনেকে রিটেনে ভালো করে, কিন্তু চাকরির ভালো করার জন্য আরও কিছু অ্যাপটিটিউড (সহজাত দক্ষতা) আছে, যেটা আমার বিবেচনায় ভাইভা দিয়ে ভালো অ্যাসেসমেন্ট হতে পারে।
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগের পদ্ধতি যথাযথ ছিল না মনে করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার আইনগতভাবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সরকারের বিবেচনায় এর মাধ্যমে আরও ভালো নিয়োগ সম্ভব।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হলে সেটি নিয়ে গণমাধ্যমকে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো নিয়োগের পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা নিয়ে সাংবাদিকদের কথা বলা উচিত। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করতে হবে।
এ সময় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের নিয়ম করা যায় কি না? সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নের করা হলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমি এই ব্যাপারে আলাপ করতে পারি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার