ডেস্ক নিউজ
গণমাধ্যমকর্মীদের কোনও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। সাংবাদিকরা যাতে অবাধে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই সরকারের লক্ষ্য।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। এটি অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপতথ্য, গুজব বন্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না।
ইয়াসের খান বলেন, একই সঙ্গে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন, অর্থাৎ ভুল, অসত্য ও অপতথ্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে পরামর্শ করছে। সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের বিস্তার বন্ধ করা। তবে সেটা কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছি।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি প্রস্তাব এসেছে, নিবন্ধিত ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট বা অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের যদি আইনের আওতায় আনতে হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আনা হবে। আমরা এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড নিয়ে কাজ করছে সরকার। টেলিভিশন সাংবাদিকদের একটি বেতন কাঠামোয় আনা উচিৎ। এটি নিয়ে কাজ চলছে, দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করা হবে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। শ্রম মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়নকারী। অফিশিয়ালি বা ব্যক্তিগতভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার