রবিন মজুমদার
কুমিল্লার লালমাইয়ে প্রবাসের দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে। জীবনের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা এবং নিরাপত্তার আকুতি জানিয়ে সৌদি আরব প্রবাসী শাহজাহান লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের মো. মোতালেব হোসেন (৪৬) ও তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩২)।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বাদী শাহজাহান দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে সততার সাথে ব্যবসা করে আসছেন। সেখানে তিনি ও তার ভাইয়েরা যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত বছর (০১/০২/২০২৫ তারিখে) জরুরি পারিবারিক ও আর্থিক প্রয়োজনে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে এসে নিজের ক্রয়কৃত জমি বিক্রি করতে চাইলে ১নং বিবাদী মোতালেব হোসেন বিদেশ থেকে বাধা দেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদীরা বাদীর সাথে বৈরিতা শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসীর প্রায় সাড়ে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে গত ৮ মাসে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
এছাড়া প্রবাসীর ইকামার নবায়ন ও ছুটি বাড়ানোর কথা বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েও অভিযুক্তরা কোনো কাজ করেনি। বর্তমানে ভিসার মেয়াদ ও ছুটির জটিলতার কারণে তিনি বিদেশে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার