ডেস্ক নিউজ
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজের গ্রন্থাগারে (লাইব্রেরি) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা এক নির্দেশনায় অধীনস্থ সব দপ্তরপ্রধানকে এ বিষয়ে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ইতিমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য লিখিত তাগিদ পাঠিয়েছে।
বই তিনটি হলো—প্রয়াত গবেষক ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা 'প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী' এবং 'বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম', এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের লেখা গ্রন্থ 'সবার আগে বাংলাদেশ'।
তিনটি বইয়ের মোট সম্মিলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা।
নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বইগুলোর প্রকাশক ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা’র পক্ষে জহির দীপ্তি গত ২৩ আগস্ট স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন। আবেদনে বইগুলোকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে সব মেডিকেল লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ওই চিঠিতে তার নিজ সই, তারিখ ও অফিশিয়াল সিলমোহরসহ 'জোর সুপারিশ করা হলো' লিখে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দেন।
চিঠিতে প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত পেশাজীবী, নার্স, শিক্ষার্থী এবং সেবা নিতে আসা সচেতন নাগরিকদের জন্য এই বইগুলো পাঠ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে। প্রতিমন্ত্রীর সেই অনুমোদনের আলোকেই পরবর্তীতে দপ্তরপ্রধানদের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের একটি আদেশ জারি করে পরবর্তীতে তা বাতিল করার তিন মাসের মাথায় মেডিকেল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে এই নতুন নির্দেশনা এল।এর আগে গত ৩ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে এই তিনটি বই সব সরকারি প্রাথমিকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও ব্যাপক আলোচনার পর গত ৬ জুলাই তা বাতিল করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জীবনীভিত্তিক বই সরকারি খরচে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের এমন নজির অতীতেও দেখা গেছে। এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর শিশু একাডেমি প্রকাশিত ২৭টি বই কেনার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিয়েছিল।
একইভাবে ২০১৪ সালেও এক আমলার লেখা শেখ মুজিবকে নিয়ে তিনটি বই কেনার নির্দেশনা জারি করেছিল মাউশি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার