মোঃ ইব্রাহিম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের দিঘলচাঁদ গ্রামের লালঘাট–আশুড়ার বিলের ওপর নির্মিত প্রায় ২১০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি ভারী বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন, যাতে এলাকাবাসীর পারাপারে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
ইউএনওর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন পাহান-এর তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশের সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের এমন দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, সাঁকোটি চালু হলে ধানজুড়ি মিশন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন বলেন, "জনদুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে খুব দ্রুত সাঁকোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার