জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ প্রক্রিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি পথেই সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেহেতু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাই ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ নির্বাচন একটি মাইলফলক। সারা বিশ্ব একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রায় শতভাগ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ভোটাররা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে।
এসময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীনতার পর এই সংসদই সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়নকারী এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক হবে। নতুন সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকার হিসেবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূলের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় প্রত্যাশিত ছিল এবং তারেক রহমানের উপস্থিতি ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতীক এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেধানির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গঠনের লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন- এই তিন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গেজেটের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার