ডেস্ক নিউজ
অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ও যুবদল কমিটি এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার এই তিন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পাশাপাশি বেশকিছু নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিএনপি কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের ঘোষণার নোটিশ দেয়। বহিষ্কারের নোটিশে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী আচরণের কথা বলা হয়েছে। তবে যুবদল ও ছাত্রদল জানিয়েছে, তাদের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনীর হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বিএনপি প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।
যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।
ছাত্রদলও তাদের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটি বিলুপ্ত করে শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট অভিযোগে ৫ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্য সচিব ওমর নাইম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান।
এদিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল তাদের ৪ নেতাকে সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। তারা হলেন- শাহআলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহআলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার