মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘অতিরিক্ত ক্লাস’-এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা এবং এর বিপরীতে নেওয়া ফি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৮ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এ ক্লাসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের পরিবেশ।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই পরিচালিত হচ্ছে এসব অতিরিক্ত ক্লাস। মাসিক ফি নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। কারও দাবি, প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে; আবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক বলছেন, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একই পরিমাণ টাকা নেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একেকটি ব্যাচে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী এসব ক্লাসে যুক্ত রয়েছে বলে তারা দাবি করে।
এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বুঝিয়ে পড়ানোর পরিবর্তে অনেক সময় মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বায়োলজিসহ অন্যান্য বিষয়েও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থী।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, অতিরিক্ত ক্লাসের মান সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় সে এক মাস ক্লাস করার পর আর অংশ নেয়নি। নতুন শিক্ষার্থীদের আগে কিছুদিন ক্লাস করে নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সে।
বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাসে অংশ না নিয়ে বাইরে পড়াশোনা করলে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এমনকি এ কারণে এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহাজান আলী বলেন, অতিরিক্ত পাঠদানের মূল সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের। পরিপত্রের আলোকে শিক্ষকরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন।শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কোচিংয়ে অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, শ্রেণিকক্ষে অন্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে।
শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস করানো হচ্ছে।তবে মাসে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় না; কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়।
৩ হাজার টাকা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, নির্ধারিত ১২ দিনকে এক মাস হিসেবে না ধরে ৩০ দিন পড়ানো হচ্ছে বলেই এভাবে হিসাব করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কেউ কেউ। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৬ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৬১ শতাংশে।
তবে ফলাফল কমে যাওয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লাসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ। তার ভাষ্য, নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি ও শতভাগ মেধা যাচাইয়ের কারণে ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।আর এই কোচিং না করলে ফলাফল আরো খারাপ হতো।
বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাস করাতে পারবেন, তবে তা নীতিমালা অনুসরণ করেই করতে হবে। অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য নীতিমালায় নির্ধারিত ফি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিমালাটি অনেক পুরোনো। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার