ডেস্ক নিউজ
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে রনজিনা পারভীন (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারী কর্তৃক প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলামত হিসেবে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগ ও ব্যাগে থাকা বাস টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ৩০ আগস্ট মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিক নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। তাদের কাছ থেকে ‘ইয়ামাহা আর-১৫’ মডেলের একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব। র্যাবের দাবি ছিল, বাইকটি ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল।
র্যাবের ব্রিফিং শেষে গ্রেফতার মূল সন্দেহভাজনসহ দুই ব্যক্তিকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। তখন মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন চিৎকার করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। এমনকি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় যে দুটি সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, সেখানেও ছিনতাইয়ে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল দেখতে পাওয়া যায়। ফলে গ্রেফতার আসামি ও উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের রং নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার