ডেস্ক নিউজ
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন।
১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সময়ে এস এম শরীফের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশকে উচ্চশিক্ষা সংকোচন ও শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করে বলে সে সময় সমালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করার প্রস্তাবও ছিল।
এই শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। ওই দিনের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহসহ কয়েকজন নিহত হন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার শেষ পর্যন্ত শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করে। শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তীতে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষা অধিকার ও ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার