ওমর ফারুক | লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম এমপির ছোট ভাই ও লাকসামের মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শাহ আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাঁর নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং তাঁর নির্বাচনী এলাকার অসংখ্য মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবুল কালাম এমপি বলেন, “আমার ছোট ভাই শাহ আলম এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন থেকে থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি তা নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ মরহুম শাহ আলমের কর্মময় জীবন, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মরহুম শাহ আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিটিএমই-এর নেতৃবৃন্দ, চৈতি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
জানাজার নামাজে সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রিয় এই জনপ্রতিনিধির বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার