ডেস্ক নিউজ
গত তিন বছর ধরে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশেই স্থবির হয়ে আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই হার বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে দেশের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় চার কোটি মানুষ এখনও পড়তে ও লিখতে জানেন না। এমন প্রেক্ষাপটে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।
শিশুদের স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে মিড-ডে মিল ও স্কুল ড্রেসসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী রাখতে ভবিষ্যতে আরও সুবিধা যুক্ত করবে সরকার। পাশাপাশি নৈতিকতা ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা শিক্ষার বাইরে থাকা শিশু ও শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনতে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার