![Logo]()
প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৯, ২০২৬, ২:০৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ৪:৩৪ পি.এম
লাকসামে উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে বিএনপির এমপি আবুল কালামের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

ওমর ফারুক
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জনকল্যাণমূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনায়, বিশেষ করে তারেক রহমান–এর নির্দেশনা অনুসরণ করে, তিনি চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রশাসনকে সক্রিয় রেখে দিনরাত কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
পরিবহন ও জনভোগান্তি নিরসনে উদ্যোগে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ইজারা আদায় বন্ধে তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন—১০ টাকার বেশি ইজারা নেওয়া যাবে না। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাল দখল করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দূর করতে ইতোমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেমন: টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ মনোহরগঞ্জে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা প্রদান এসব পদক্ষেপ এলাকায় কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার প্রসারে সহায়ক হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কুমিল্লা–নোয়াখালী মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে মনোহরগঞ্জের জন্য চার লেন সড়কের দাবি সংসদে উত্থাপন করেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং এবং মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত নারী নবাব ফয়জুন্নেসা–এর পৈতৃক বাড়ি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসূচি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিএফ কার্ড বিতরণ এবং ৪০ দিন ও ১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম–এর স্বল্প সময়ের কার্যক্রমে লাকসাম–মনোহরগঞ্জ এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চল ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদে পরিণত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার