প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৩:২৪ পি.এম
লাকসামে অবৈধ বেড়িবাঁধ ভেঙে জলাবদ্ধতা নিরসন করলেন এমপি মো.আবুল কালাম
ওমর ফারুক:
অবৈধভাবে নির্মিত বেড়িবাঁধ অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের নাড়িদিয়া গ্রামের বিরুলিয়া খাল পরিদর্শনে যান তিনি। ওই সময় স্থানীয় লোকজন পরিদর্শনে আসা সংসদ সদস্যকে অভিযোগ করে বলেন, কিছু ব্যক্তি খালে কৃত্রিমভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়, ফলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে প্রায় ৫'শ পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ে চরম ভোগান্তিতে ছিল এবং প্রায় ১২০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।
এ সময় এমপি আবুল কালাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে অবগত হন এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি এক্সেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে অবৈধ বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে তারা মুক্তি পাবেন এবং কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মো. আবুল কালাম যায়যায়দিনকে বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার