প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম
লাকসামে অবৈধ তেল মজুদারকে জরিমানা
ওমর ফারুক লাকসাম(কুমিল্লা ):
কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার দৌলতগঞ্জ বাজার এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) অভিযানে জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে ‘মেসার্স সাথী অয়েল’কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা এনএসআই, কুমিল্লা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের আগে এনএসআইয়ের একটি টিম গোপন নজরদারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে অবৈধভাবে পেট্রোল ও ডিজেল মজুদ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার জ্বালানি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছিল, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. হারুনুর রশিদ দাবি করেন, তার কাছে ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি মজুদের লাইসেন্স রয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। পরে তিনি আগামী ১৯ এপ্রিল উপজেলা কার্যালয়ে লাইসেন্স উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে এবং আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ থাকা জ্বালানি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার