প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬, ২:৫০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১২:০২ পি.এম
রাশিয়ার যুদ্ধে নিহত কুমিল্লার সাগরের মরদেহ ফেরত চায় বাবা-মা
মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা
সংসারের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনার তরুণ মো. সাগর আবদুল্লাহ। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। কিন্তু আরও বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে এক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে। সেই যুদ্ধেই প্রাণ হারান সাগর। তবে মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর গত শনিবার সহযোদ্ধার ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তাঁর পরিবার। এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন অসুস্থ বাবা-মা।
সাগরের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকায়। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। ছেলেকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন, অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাবেন এবং মায়ের কষ্টের দিন শেষ করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কান্নায় রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে ছায়কোট গ্রামের সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে বসে আছেন সন্তান হারানো কবীর হোসেন। কে গেলো কে আসলো বাড়িতে তার কোন খেয়াল নেই।
গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পেয়ে কান্না শুরু করেন। কবীর হোসেন বিড়বিড় করে বলতে থাকেন একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হওয়ার পর আর রিকশা চালাতে পারেন না তিনি। এর মধ্যে তাঁর শরীরে ধরা পড়েছে ক্যানসার। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাতে তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।
পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধারদেনা করে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে সাগরকে রাশিয়ায় পাঠান তিনি। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এতে পরিবারের অভাব দূর হওয়ার আশা দেখছিলেন স্বজনেরা।
কিন্তু বেকারিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। ওই দালাল তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখান। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল বাবা-মায়ের। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধা বন্ধুর ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তাঁরা। আকস্মিক এ খবরে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
সাগরের এক বোন বলেন, পরিবারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। তাঁকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই ভাই আর বেঁচে নেই এ কথা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। শেষবারের মত ভাইয়ের মরদেহটি দেশে আনতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান।
সাগরের প্রতিবেশীরাও তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিদেশে ভালো কাজের আশায় গিয়ে যেন আর কোনো তরুণ এভাবে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সাগরের বাবা কবীর হোসেন বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে অনেক টাকা ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর আশা ছিল, ছেলে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখন ছেলেকে হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
ছেলের মৃত্যুর খবরে কান্না থামছে না মা দেলোয়ারা বেগমের। দিনরাত ছেলের ছবি হাতে নিয়ে অনবরত কেঁদে চলছেন। বার বার মোবাইল ফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকেন যদি ছেলের ফোন কল আসে। যদি ছেলে একবার মা বলে ডাক দেয়।
ছেলে মরে গেছে। ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। যে ছেলেকে ঘিরে সংসারের দুঃখ-কষ্ট দূর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তিনি।
এদিকে, কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি পরিবার।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশ পেলে সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সহযোগীতা করা যায় সবই করবেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার