মোঃ আল আমিন খান রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সজল মৃধা (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সজল মৃধা উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের মো. বাবুল মৃধার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর নানি বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সজল মৃধা বিভিন্ন সময় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন সজল মৃধা। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কিশোরীর নানি বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন।
মামলার পর অভিযান চালিয়ে সজল মৃধাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার