ডেস্ক নিউজ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা ও হুমকি রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।
রিট দায়েরের পর তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে এসব বাধা প্রদান প্রতিরোধ, সাংস্কৃতিক স্থাপনার সরকারি সুরক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়েই হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশটাকে সোনার বাংলা এবং এর যে সাংস্কৃতিক তথা বাঙালি জাতীয়তাবাদী সত্তা রয়েছে, তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। সরকার যাতে এসব অপতৎপরতা বন্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে এবং সাধারণ মানুষ যেন আইনগতভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, রিটে সেই নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মের নাম ব্যবহার করে একশ্রেণির মানুষ অপব্যাখ্যার মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।রিট আবেদনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজ, কনসার্ট, নাটক, সিনেমা ও গানসহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্প-সাহিত্যের সুরক্ষায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার