ডেস্ক নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানিতে চাকরির ভুয়া অফার লেটার পাঠিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. তানভির হাসান (২৮)। তিনি ঢাকার দক্ষিণখানের আজমপুর এলাকার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে দক্ষিণখান থানার আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরিতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া একটি পেজ দেখতে পান তিনি। আগ্রহী হয়ে পেজে দেওয়া বিদেশি মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন।
পরে প্রতারক চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগীকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির অফার লেটার পাঠায়। চাকরি দেওয়ার কথা বলে চক্রটি বাংলাদেশি কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বরে টাকা পাঠাতে বলে। ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা পাঠান।
পরবর্তীতে চক্রটি আরও টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অফার লেটারসহ চাকরির পুরো বিষয়টি ভুয়া বুঝতে পেরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে মোবাইল নম্বর থেকে ব্লক করে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চলতি বছরের ১০ জুন তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তেজগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডির পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তানভির ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনগত কার্যক্রম চলছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার