সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আজহার মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. আজহার মিয়া উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর গ্রামের আব্দুল জলিল মেম্বারের ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একই এলাকার ওই শিশুকে কৌশলে নিজের পোল্ট্রি খামারের পাশে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান আজহার। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত আজহার পালিয়ে যান। পরে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত আজহার এর আগেও এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, "আজহার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার