কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়া (২৭) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১ (এসআরবি)। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেনের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপের গতিরোধ করে। এ সময় ব্যবসায়ী, চালক ও তাঁর সহযোগীকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় ডাকাতরা।
পরে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছসহ পিকআপ এবং নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী মুরাদনগর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এসআরবির দাবি, তিনি একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার। প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করতেন তিনি। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন ইদ্রিস।
পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় এসআরবি-১১। অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার