কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানে সাফল্যের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কুসিক প্রশাসক বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনের কারণগুলোও চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা থাকলে বিষয়টি আরও উদ্বেগের। তাই কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব অভিযানে আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুসিক প্রশাসক বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কিশোরদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার