ডেস্ক নিউজ
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে আজকের মেধাবীদেরই। দেশ গঠনে তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের যথাযথভাবে উৎসাহিত করার কোনো বিকল্প নেই।’
স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া, দেশকে ভালোবাসা এবং প্রয়োজনে দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে। একইভাবে খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তিনি বলেন, ‘তরুণদের মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয় এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হয়-এসব শিক্ষা পাওয়া যায়।’
এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস, কালচার, এথিকস ও মরালস এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ভালো ফল করেছে, তাদের যথাযথভাবে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করা হবে। আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্বও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মেধা ও বিশাল জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের অন্যতম বড় সম্পদ। এই মানবসম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হবে। আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।’
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার