ডেস্ক নিউজ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান (ক্লিনিং ডে) পরিচালিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার ডিএসসিসির সব ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আরও গতিশীল করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
আজকের কর্মসূচিতে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকা, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, ছাদ ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় নিবিড় অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনকালে কোথাও জমে থাকা পানি পাওয়া গেলে তা অপসারণ এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে পানি জমে থাকতে পারে এমন ডাব বা নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ার ও ফুলের টবসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়।
অভিযানকালে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কার্যকর লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
কেবল ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়, এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়। সে লক্ষ্যে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার থাকবে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং কোনো স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার