ডেস্ক নিউজ
দখলবাজির চূড়ান্তপনা দেখে মনে হয় যেন দেশে কোনো সরকার নেই, অথবা সরকার আছে কেবল দখলবাজদের পক্ষে। সাধারণ মানুষের পক্ষে না- এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে দিনের পর দিন স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসত, সেই জায়গাটাকে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, অথচ প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা আমরা দেখিনি।’
এই ঘটনাকে সার্বিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আরও হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকালই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ বেশ কিছু স্থাপনায় একইভাবে রাতের অন্ধকারে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরপর এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, রাজধানীতেই দখলবাজ চক্র বেপরোয়াভাবে সক্রিয়; আর সরকার, প্রশাসন তাদের ফ্যাসিলিটেইট (সহায়তা) করছেন।’
পরিদর্শনকালে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, তার সমাধান হওয়ার কথা আদালতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর তা প্রতিরোধে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হয়, এই রাষ্ট্রে আইন, কানুন, প্রশাসন, সরকার বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দুই দলের পক্ষ থেকে যৌথভাবে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। নেতারা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক সব দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে যেকোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আবার চালু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান নেতারা।
পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান, প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম এবং রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার