বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের আগামী দুই বছরের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলধারার ও পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ (মামুন) এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যুগের আলোর প্রতিনিধি শাহীন আলম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ (মামুন) (বাংলা টিভি), সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ হক (দৈনিক সোনালী খবর/দৈনিক উত্তরা) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আলম (দৈনিক যুগের আলো) দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রাজু রানা (দৈনিক ঢাকার ডাক) ও মো. আশরাফুল ইসলাম (দৈনিক নাগরিক ভাবনা), দপ্তর সম্পাদক মো. আসিফ কামাল (দৈনিক দেশ বার্তা), অর্থ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন (দৈনিক স্বাধীন ভোর), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নুর ইসলাম (দৈনিক আলোকিত কণ্ঠ) এবং ক্রীড়া ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিব হাসান (দৈনিক চেতনার বাংলাদেশ)।
কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নাজিমুল ইসলাম (দিগন্তের কাগজ) ও মো. সুয়েল রানা (নয়া সংবাদ)।
নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ভূল্লী উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার, এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ভূল্লী থানা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে পুনর্গঠন করে নতুনভাবে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব গঠন করা হয়েছে। মূলধারার ও পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত এই প্রেসক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা হবে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা ও সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ভূল্লী উপজেলা একটি নবগঠিত উপজেলা। এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে আমরা কাজ করব। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটানো এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও জনস্বার্থে কাজ করবে। সকল পেশাদার সাংবাদিকের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবকে একটি সুসংগঠিত, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।
ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সফলতা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার