বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে সেলিম রেজা জুট মিলের নোংরা পানি নিয়মিত সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় একটি সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনচালকরা। একই সঙ্গে সড়কটিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোর্ড অফিস বাজার থেকে বুড়ীরহাট গামী সড়কের বোর্ড অফিস এলাকায় রাস্তার পাশে সেলিম রেজা জুট মিল অবস্থিত। মিলের নোংরা পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি চলাচলের ফলে সড়কের পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুট মিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি সড়ক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আশপাশের কৃষিজমির ফসলও নোংরা পানি ও বর্জ্যের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় এক পথচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর দিয়ে নোংরা পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রাস্তা নষ্ট হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
সুজন নামে এক অটোচালক বলেন, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হয়েছে। তার ওপর পানি জমে থাকায় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতে এসব গর্ত সহজে দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
বাদশাহ নামে এক পথচারী বলেন, মিলের পানি নিয়মিত সড়কের ওপর দিয়ে যায়। এতে রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিদিন মানুষ ও যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান দরকার।
এ বিষয়ে সেলিম রেজা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইমরান হোসেন বলেন, মিলের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন অন্যদিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে ভবিষ্যতে সড়কের ওপর পানি পড়ার সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন তারা।
ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারি সড়ক নষ্ট করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
সড়কের ওপর যাতে কোনোভাবেই জুট মিলের নোংরা পানি প্রবাহিত না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার