জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, রোগীর সম্মতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঙ্গ অপসারণ এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতা যথাসময়ে মোকাবিলা না করার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন নামে এক সরকারি কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় হাসপাতালটির পরিচালক ও জেনারেল সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং অবস অ্যান্ড গাইনির কনসালটেন্ট ডা. সাবরিনা বরকতের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী সাবেরী শারমিন জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জামালপুর শহরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত এম এ রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর সম্মতি ছাড়া জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী গুরুতর জটিলতা দেখা দিলেও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর বাম পাশের ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের আশপাশে সংক্রমণ এবং ডান পাশের ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট থাকার কথা জানানো হয়। পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে জরায়ু বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঙ্গ অপসারণের বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাঁকে বা তাঁর স্বজনকে জানিয়ে সম্মতি নেওয়া হবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।
আরজিতে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে জ্বর, বমি, তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পেটে স্থাপিত ড্রেন টিউব দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত তরলও বের হতে থাকে। বাদীর অভিযোগ, এসব গুরুতর লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা যথাসময়ে করা হয়নি। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, এ সময় পেট খুলে ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা এবং সংক্রমিত বা দূষিত তরল পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়। পরবর্তী সময়ে জটিলতা অব্যাহত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হয়। এটি বৃহদান্ত্রের অংশ ও যোনিপথের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ সৃষ্টিজনিত একটি জটিলতা। এর চিকিৎসায় ২৩ মার্চ তাঁর Exploratory Laparotomy ও Diversion Loop Ileostomy করা হয়। পরে ২০ জুন আরেকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পূর্বে তৈরি করা আইলিওস্টোমি বন্ধ করে অন্ত্রের স্বাভাবিক পথ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী অস্ত্রোপচারে রেক্টোসিগময়েড জংশন ও ভ্যাজাইনাল ভল্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিস্টুলার সন্ধান পাওয়া যায়। বাদীর দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় কোনো ধরনের অন্ত্রের ক্ষতি, সংক্রমণ বা অন্য কোনো চিকিৎসাগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব জটিলতার সঙ্গে প্রথম অস্ত্রোপচারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সাবেরী শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আমাকে একাধিক বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় শারীরিক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক জবাব পাইনি। তাই আজ অভিযুক্ত দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।
আদালতের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন বাদী।
মামলাটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, সাবেরী শারমিন একজন সরকারি কর্মকর্তা যিনি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন এম এ রশিদ হাসপাতালে। এ বিষয়ে এ পর্যন্ত আমাদের কাছে কোন ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে সেটি আমরা অবশ্যই তদন্ত করে দেখব এবং এখানে কোন ভুল চিকিৎসা কোন ধরনের অবহেলা এগুলি থাকলে আমরা আমাদের বিধি মোতাবেক আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে বিধিবিধান আছে সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার