ডেস্ক নিউজ
ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করিয়ে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে বিল প্রস্তুত, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এসব অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে নিয়োগ করা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এরপর চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আব্দুল ফাত্তাহ গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও তাকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। সব তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার