প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৮:৩৫ এ.এম
ভারতে সাজাভোগ শেষে শিশুসহ ১৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে হস্তান্তর
জাকির হোসেন, বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি
ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন শিশুসহ ১৮ জন নারী-পুরুষ,বাংলাদেশী নাগরিক।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নাগরিকদের মধ্যে ৯ জন নারী ও ৯টি শিশু রয়েছে। তারা ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, বরিশাল, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এই নারীরা। সেখানে বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জেল খাটার পর ভারতের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাদের নিজেদের শেল্টার হোমে আইনি হেফাজতে রাখে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা 'রাইটস যশোর'-এর তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান জানান, ফেরত আসা নারী ও শিশুদের আপাতত তাদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার