মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
ব্যবসার কাজে প্রতিদিনের মতোই ভোরের আলো ফোটার আগেই বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন রেজাউল ইসলাম (৪৫)। পরিবারের কেউ হয়তো ভাবেননি, প্রিয় মানুষটি আর জীবিত ফিরে আসবেন না। পাট কিনতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিভে গেল তার প্রাণ। স্বজনদের অপেক্ষার অবসান হলো, তবে ফিরলেন তিনি নিথর দেহে।
দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিরামপুরে পাথরবাহী অজ্ঞাত ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর চায়না অফিস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল ইসলাম ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম গ্রামের মো. রইচ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় ধান ও পাট ব্যবসায়ী ছিলেন। বর্তমানে বিরামপুর পৌরশহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে পাট কেনার উদ্দেশ্যে বিরামপুর থেকে মোটরসাইকেলে করে দিনাজপুরের আমডুঙ্গির হাটে যাচ্ছিলেন রেজাউল ইসলাম। পথে দূর্গাপুর চায়না অফিস মোড়ে পৌঁছালে গোবিন্দগঞ্জগামী একটি অজ্ঞাত পাথরবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ সময় আরও একজন আহত হন।
রেজাউলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে স্বজনরা ছুটে আসেন বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে স্বজন ও সন্তানের সহপাঠীরা শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ।
বিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা শামিম আল মামুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার