মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিরামপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারীরা। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, বিরামপুর, দিনাজপুরের উদ্যোগে এ অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়। এ কার্যক্রমের মূল প্রতিপাদ্য ‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম—স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’। পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই দিন দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিরামপুরে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা পাপিয়া নাছরীন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রেজোয়ানা পারভীন এবং পৌর মহিলা দলের সভাপতি রেজভিনা পারভীন শিমুলসহ উপজেলা ও পৌর মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারীদের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার