জাকির হোসেন, বেনাপোল(শার্শা) প্রতিনিধি:
যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণ লুকিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করেছেন এক যাত্রী। বেনাপোল ইমিগ্রেশন এলাকার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে ওই যাত্রীর কাছ থেকে ৮২ গ্রাম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চোরাচালানসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল সার্কেলের কর্মকর্তারা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ভারতগামী সন্দেহভাজন যাত্রী আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। তবে প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টিও অস্বীকার করেন।
পরে সন্দেহ দূর করতে ওই যাত্রীর শরীরের এক্স-রে করা হয়। এতে তার রেকটামে স্বর্ণসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। একপর্যায়ে তিনি শরীরের ভেতরে স্বর্ণ বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তার কাছ থেকে ৮২ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যব স্বর্ণগুলো কাস্টম হাউস, বেনাপোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শরীরের অভ্যন্তরে স্বর্ণ লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার