প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ১:০৪ পি.এম
বীরগঞ্জে ২,৩৪০ বস্তা সার জব্দ, দুইজনের কারাদণ্ড
মো:ফেরদৌস ওয়াহিদ সবুজ,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পৃথক অভিযানে ২ হাজার ৩৪০ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিসিআইসি লাইসেন্সধারী ডিলার নওশাদ ট্রেডার্স ও জনতা হাসকিং মিলে ১ হাজার ৪৯৩ বস্তা টিএসপি, ১৮১ বস্তা ডিএপি ও ২১৬ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ১ হাজার ৮৯০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী ফয়সালকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এর দুই দিন আগে একই এলাকায় কথিত অবৈধ সার মজুদের অভিযোগে বিএডিসি ডিলার সোহাগের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন। ওই অভিযানে ৪৫০ বস্তা এমওপি সার জব্দ, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ‘জনি’ নামে এক কর্মচারীকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দুই অভিযানে জব্দ করা সারসহ মোট ২ হাজার ৩৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি জানান, জব্দকৃত সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে অবৈধভাবে মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার