মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে মিনি স্টেডিয়ামের একটি ভবনের দেয়ালে পুনরায় ‘জয় বাংলা’ লেখা দেখা গেছে। আগামী ৩ অক্টোবর শনিবার বিরামপুর বড়মাঠে বড় পরিসরের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আয়োজনকে সামনে রেখে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী ৩ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঐতিহ্যবাহী বিরামপুর বড়মাঠে দিনাজপুর-৬ আসনের চার উপজেলা—বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাটের ২৪টি ইউনিয়ন এবং ৩টি পৌরসভার মোট ২৭টি দলের অংশগ্রহণে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের সংস্কার ও রং করার কয়েক দিন পর মূল ভবনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা দেখা যায়। পরে সেটি পুনরায় রং করে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মূল ভবনের পাশের আরেকটি ভবনের দেয়ালের সামনে ও দক্ষিণ পার্শ্ব দেওয়ালে আবারও ‘জয় বাংলা’ লেখা দেখা যায়। বর্তমানে লেখাটি দেয়ালে দৃশ্যমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে হাইকোর্ট ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করলেও ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ওই রায় স্থগিত করেন। ফলে বর্তমানে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণার সেই হাইকোর্টের রায় কার্যকর নেই।
তবে দেয়ালে লেখাটি কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে লিখেছে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সরকারি ক্রীড়া স্থাপনার দেয়ালে পুনরায় এমন লেখা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই স্থানে আগে লেখা মুছে ফেলার পর আবারও লেখাটি দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজনের আগে মিনি স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে বিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু'র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কে বা কারা এটা করছে, সেটা ধরার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আর যে লেখাটি রয়েছে, সেটা মিশিয়ে ফেলা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার