মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রসূতি সেবার পরিধি আরও বাড়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক পদায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এসব চিকিৎসক পদায়ন করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ৭২টি, মার্চে ৫১টি, এপ্রিলে ৪৮টি, মে মাসে ৪৬টি, জুনে ৩৪টি, জুলাইয়ে ৪৯টি, আগস্টে ৬৩টি এবং সেপ্টেম্বরে ৭৭টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। এ হিসাবে নয় মাসে মোট ৪৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।
হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার সেন জানান, নরমাল ডেলিভারি সেবায় চারজন দক্ষ মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সঙ্গে সিনিয়র স্টাফ নার্সরা কাজ করছেন। পাশাপাশি মেডিকেল অফিসাররা নিয়মিত লেবার রুমে গিয়ে প্রসূতি মায়েদের প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন।
তিনি বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত গর্ভকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বহির্বিভাগে নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি প্রসবের জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ডা. সুব্রত কুমার সেন আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি সেবা দেওয়া সম্ভব হলেও সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পদায়ন করা হলে নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি সিজারিয়ান সেবাও চালু করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলা পর্যায়ে সিজারিয়ান সেবা চালু হলে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রসূতি সেবার আওতা বাড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।
এদিকে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার